পোস্টগুলি

সময়ের চালচিত্র লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বোবার শত্রু বোবা নিজেই!

ছবি
বাংলাদেশের জল-মাটি-বাতাস জুড়ে নিরন্তর চলে সুরের কোলাহল। এই কোলাহল, গোলমালের বিপরীত গোলার্ধের এক অপার্থিব উদযাপন। এর সাথে বাংলাদেশ নামের বদ্বীপ অঞ্চলের রয়েছে নাড়ীর যোগ। এ তার আত্মার একান্ত খোরাক। এদেশের মাঝিমল্লা জলের বুকে নৌকা ভাসায় সুরের মূর্ছনা তুলে। জলের ঢেউ তাতে সঙ্গত করে যায় আপন মনে। ঠেলা বা রিকশাচালক সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে যান গানের ভেতর ডুব দিয়ে। এদেশের হাটে-মাঠে-ঘাটে সুরের নিত্য আসা যাওয়া। এমন একটা দেশ থেকে সংগীত বা সুর লোপাটের হুজ্জুত কেন তৈরি হলো? কাদের স্বার্থে? সংগীত যাঁদের ধ্যান-জ্ঞান, তাঁদের অনুভূতি নেই? তাঁদের অনুভূতি নিয়ে ঘন ঘন জান্তব আস্ফালন কেন দেখতে হচ্ছে বাংলাদেশকে? বর্তমানে বাংলাদেশে সংগীতচর্চার ওপর যে অস্বস্তিকর চাপ ক্রমশ বাড়ছে, তা আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হয় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কনসার্ট বাতিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ, সংগীতশিক্ষার পদ বাতিল—এসব যেন এক অদৃশ্য কলকাঠির দৃশ্যমান প্রবণতার অংশ হয়ে উঠেছে। আর সেই প্রবণতার ভয়াবহতম প্রতীক হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে ‘ভাইরাল’ হওয়া একটি ভিডিও। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বিশেষ ‘লেবাস পরিহিত’ কয়েকজন তরুণ হারমনিয়াম-তবলা ভাঙছে লাথি দিয়...

মাটির মূর্তিই ভেঙেছে তোমার...

মা টির মূর্তি ভেঙেছে তোমার? ভয় নেই বঙ্গবন্ধু, আমরা এখনো অগুনতি সন্তান রয়েছি তো! ভগ্ন হৃদয়, বিষণ্ণতায় জর্জর আছি সত্যি তবুও জেনো, রুদ্ধ হয়নি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতার স্বর একাত্তরে মুছতে তোমাকে পারেনি পাকিস্তানি জান্তা আজকে তাদের প্রেতাত্মারাই ভাঙছে তোমার মূর্তি ওগুলো পাথর কিংবা মাটির কাঠামো, নিমেষেই হয় তছনছ কালের মুঠোয় অক্ষত আছে তোমার তর্জনীর ইশারা, সে অজর! পাঁজরে পাঁজরে শিখাঅনির্বাণ সাত মার্চের ভাষণ কালের সে সাক্ষী পারবে মুছতে লাল দুঃশাসন? বাংলার মাটি, বাংলার জল, আছো তুমি সবে মিশে তোমাদের আনা স্বাধীনদেশটা এখনো আছে দাঁড়িয়ে  আছে লক্ষ সন্তান, তোমার ভাবনা কিসে! প্রনতি জেনো সেই ছেলেমেয়ের আজকে বিষাদ দিনে- অদৃশ্যে তারা রেখে গেল  অশ্রু-আগুন ফুল।  

মাটির মূর্তি ভাঙা সহজ, ইতিহাস মোছাও কি?

ছবি
এ ই ঘটনা জুলাই ২০২৬-এর; কোনো এক স্কুলের শিশু শ্রেণির ছেলেমেয়েদের দুহাজার চব্বিশের জুলাই-এ নিহত আবু সাঈদের ছবি আঁকতে বলা হয়েছিল। কতই বা বয়স ওদের! কে শহীদ, কে বীর, এসব বোঝার ক্ষমতা এই বয়সে ওদের ভেতর তৈরি হওয়ার কথা নয়। বোধটা যেন তৈরি হয় সেজন্য ওদের তৈরি করা প্রয়োজন বইকি। তৈরির এই ধাপ পরিবার এবং স্কুল, দুই স্থানেই হতে পারে। ইতিহাসের প্রতি সৎ থেকে দেশের জাতীয় বীরদের গল্প শিশুদের বলা জরুরি। ওদের ধারণক্ষমতা বুঝেই ইতিহাসের পাঠদান চলতে পারে। বলা যেতে পারে আমাদের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের গল্প। তাঁদের আত্মত্যাগ রূপকথা মনে হলেও তা যে একবিন্দুও বানোয়াট নয়, তার সত্যতা ইতিহাস ধারণ করে আছে। শিশু শ্রেণির শিশুরা এখনই সেসব বুঝবে না। কিন্তু ছোটবেলা থেকে যদি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বীরশ্রেষ্ঠ এসব গল্পগুলো সহজবোধ্য করে শোনানো যায় তাতে করে শিশুমনে দেশের জন্য জীবন দেওয়া বীরদের প্রতি যেমন শ্রদ্ধা-মমতা তৈরি হবে; পাশাপাশি ইতিহাসকে গুরুত্ব দেবার প্রবণতার বীজটিও পুঁতে দেওয়া সম্ভব হবে। ইতিহাস বিমুখ জাতি হালহীন নৌকার মতো লক্ষ্যহীন গন্তব্যের যাত্রী। ইতিহাসবিমুখতা আমাদের আগামীর কাণ্ডারী হোক সেটা নিশ্চয়ই আমরা চাইবো না। শিশুমনে ই...

দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক

ছবি
ই তিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন রাষ্ট্রের আইন আর মানুষের বিবেক একে অপরের বিপরীতে দাঁড়ায়। Netflix-এর ‘23,000 Lives’ সেই সংঘাতেরই এক জীবন্ত দলিল। এখানে কিছু তরুণ সমুদ্রের দিকে ছুটে যায় শুধু এই বিশ্বাস নিয়ে যে মানুষের জীবন বাঁচানো কোনো রাজনৈতিক অপরাধ নয়, বরং মানবিকতার দিক থেকে এটি তার মৌলিক দায়িত্ব। জার্মানির কিছু দরদী তরুণ মিলে ২০১৬’র দিকে তৈরি করে Jugend Rettet নামে একটি ছোট্ট NGO, যার লক্ষ্য ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের উদ্ধার করা। এই উদ্যোগে তারা কোনো সরকারি প্রশিক্ষণ পায়নি, কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও জোটেনি। শেষমেশ ক্রাউড-ফান্ডের অর্থে তাদের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়; যার আওতায় একটি ব্যবহৃত মাছ ধরার জাহাজ কিনে ভূমধ্যসাগরে নিয়ে যাওয়া হয় যাতে ডুবন্ত প্রায় শরণার্থীদের পানি থেকে উদ্ধার করা যায়। লুকাস এবং তার দলের প্রধান কাজ ছিল যে মানুষগুলো বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে ডিঙ্গিতে চড়ে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে, তাদের নিরাপদে তুলে আনা। কিন্তু তাদের এই কাজই রাষ্ট্রের চোখে হয়ে ওঠে অপরাধ। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তার সার্বভৌমত্বকে এতটাই মূল্যবান মনে করে যে মানুষের জীবন কখনো কখনো সেই সার...

মেসি নামের মায়াবী ঘাতক

ছবি
“আমি ইতিহাসের সেরা কিছু ফুটবলারের বিপক্ষে কোচিং করিয়েছি, কিন্তু আজকের মতো রাতগুলোই মনে করিয়ে দেয় লিওনেল মেসি কেন অন্যদের থেকে আলাদা। আমরা পুরো সপ্তাহ ধরে তার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, মার্কিং প্লেয়ার ছিল, নির্দেশনা ছিল… কিন্তু এর কোনোটিই যথেষ্ট ছিল না। সে তার দুটি অসাধারণ মুহূর্ত দিয়ে আমাদের শাস্তি দিয়েছে। আপনি তাকে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে পারেন, কিন্তু আপনার গড়া সবকিছু ধ্বংস করতে মেসির মাত্র পাঁচ সেকেন্ড লাগে। আজ রাতে ঠিক সেটাই ঘটেছে। দুটি অ্যাসিস্ট, কোনো আতঙ্ক নেই, কোনো অপ্রয়োজনীয় মুভমেন্ট নেই, কেবল নিখুঁত ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা। সে জোর করে খেলা চালায় না। সে অপেক্ষা করে… আর আপনি একটি ভুল করলেই আপনার খেলা শেষ। আমি টাচলাইন থেকে চিৎকার করছিলাম কারণ আমি জানতাম প্রতিবার সে বল পেলেই বিপদ হতে পারে। আমার খেলোয়াড়েরাও তা জানত। কিন্তু মেসি কী করতে সক্ষম তা জানা এবং তাকে সত্যিই থামানো দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। সে এমন সব পাস দেখতে পায় যা বিশ্ব ফুটবলের আর কেউ কল্পনাও করতে পারে না। লোকেরা গতি এবং শক্তি নিয়ে কথা বলে। মেসির এগুলোর কোনোটিরই প্রয়োজন নেই। মাঠের প...

শোকার্ত তুরাগের পাড়ে গেয়ে যায় দারবিশের বাউল

ছবি
তু রাগ হয়তো ভবিষ্যতেও বয়ে যাবে। সময়ের দাগ কামড় বসাবে শরীরে। ওর জলের অতলে লুকানো জলের দাগ! জল না কি রক্ত? সন্তর্পণে সাক্ষী দিয়ে যাবে নামহীন অসংখ্য মৃত্যুর। একদিন কি তাকে কহর দরিয়া নামে ডাকা হবে? কষ্টচাপা নদী, যার প্রতিটি ঢেউয়ের নিভৃত ভাঁজে থাকে কষ্টের গোপন দলিল, তাকে তো এমন নামেই মানায়! নদীকে যখন জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করা হলো, আমরা ধরে নিলাম বুঝি তাকে মানুষের মতো অধিকার দিলাম, অথচ মানুষের অধিকার মানুষের কাছেই আর রইল না। ফেব্রুয়ারির বাতাসে প্রথম রক্তের গন্ধ, মার্চে তালিকা, এপ্রিলের বৈশাখে হাসপাতালের শীতল বিছানা, মে মাসে ফ্লাইওভারের নিচে ঝুলে থাকা শরীর—সবই যেন তুরাগের বুকের ওপর একটি, একটি করে দাগ হয়ে জমা রইল। ভোল বদলে পারদর্শী মানুষের কাণ্ড যেমন সে দেখেছে, একই মুদ্রার নির্লিপ্তি নিয়ে দেখেছে লাশের ভাসান। মায়ের শরীর ভেঙে পড়েছিল মৃত ছেলের ওপর, জন্মদিনের কেকের মোমবাতি নিভে গিয়েছিল রডের আঘাতে, জেলখানার দেয়াল গিলে ফেলেছিল অসংখ্য শ্বাস। তুরাগ দম আটকে শুনেছে কেবল সে আর্তনাদ, অসহায়ত্ব নিয়ে চোখ বুঁজে ফেলেছিল বুঝি জান্তব জিঘাংসার হলিখেলায়। ওর বেয়াড়া কিছু ঢেউ নিষেধের আজ্ঞা ভুলে অস্ফুটে বলে ওঠেছে ‘আমি-আ...

ইডি নিউম্যানের সঙ্গে কথোপকথন

ছবি
সাক্ষাৎকার বুঝি আত্মপ্রকাশের একটা দরজা খুলে দেবার মতো ব্যাপার। দুজন(কখনো কখনো দুইয়ের অধিক) মানুষের কথোপকথনে প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে উঠে আসে অনেক কথা, স্মৃতি আর গল্পের বীজ। এতদিন সাক্ষাৎকারগ্রহীতা হিসেবে বেশ কয়েকজন সাহিত্যিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তাঁদের সবাই লেখালিখির ক্ষেত্রে উজ্জ্বল এবং বিস্ময় জাগানোর মতো রয়েছে তাঁদের ভক্তপাঠক। তার কিস্যুই নাহার তৃণার নেই। সংগ্রহের যে ব্যাপক বিশাল আগ্রহ আছে তাও নয়। গতবছর পর্যন্ত সাহিত্যে নোবেলখানা কোন উপায়ে বগলদাবা করা যায়, সেটি নিয়ে ভাবতেম। নোবেলপ্রাপ্তি নিয়ে কোনো এক ভিনদেশি সাহিত্যিকের মতামত জানার পর ‘নাআআ এ হতে পারে না’ বলে সেস্বপ্ন ভাসান দিয়েছি। মাথা খারাপ নাকি! কাড়ি কাড়ি সাক্ষাৎকার দেওয়া লাগবে। আজ এই অনুষ্ঠানে যাও, কাল ওইখানে গিয়ে বলো: যখন ফোনটি এলো, আমি তখন আনন্দ নাড়ুতে সবেমাত্র কামড় বসিয়েছি! প্রশ্নকর্তা চোখ মটকে হয়তো বলতে চাইবেন, আরে না, না, ওই ফোন আপনাকে যখন করা হবে তখন হয়তো ওখানে গভীর রাত… তো? যার রাত জাগার অভ্যেস, সে না ঘুমিয়ে নাড়ু খেতে পারে না? যুক্তির মুখে চুনকালি! মোদ্দাকথা, সাক্ষাৎকারের নামে একঘর লোকের সামনে লেখালিখি নিয়ে বলতে হবে...

নব্বই মিনিটের যুদ্ধ এবং আড়ালে থাকা রাজনীতি-মানচিত্র

ছবি
হ ইহই করে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে। মাঠের ফুটবল গড়িয়ে হাটে-ঘাটে, অলিতে-গলিতে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। বাড়ির যে মানুষগুলোকে পেটের জন্য অফিসে উপস্থিতি দেখাতে হচ্ছে, তারা অফিসে যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু মন পড়ে রয়েছে টিভির সূচিতে, ফুটবল মাঠে। ছেলে-বুড়ো সবাই বুঁদ হয়ে আছেন এখন ফুটবল-ফুটবল শোরগোলে। আয়োজক তিনটি দেশে চলছে ২০২৬ এর বিশ্বকাপ ফুটবল। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ স্টেডিয়ামগুলোর টিকিট ও মাঠের ভেতরের আনুষঙ্গিক খরচ এবং খেলা দেখার সামগ্রিক আয়োজন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। মাঠে বসে দেখার জন্য যে টিকিট, তার দাম আকাশছোঁয়া; সে তুলনায় পয়সা দিয়ে হলেও ঘরে বসে খেলা দেখা মন্দ নয়। বাজার অর্থনীতির মাথায় আগুন লেগেছে, তাই আয়োজক দেশে খেলা দেখার জন্য অনেককে কাঁড়ি কাঁড়ি পয়সা গুণে তবেই নিশ্চিত হচ্ছে বিশ্বকাপ উপভোগের আনন্দ। ২০২৬ বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮টি দেশ করা হয়েছে। নতুন যোগ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চারটি হলো: কেপ ভার্দে, কুরাসাও (সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়েছে), জর্ডান, উজবেকিস্তান। ফুটবলের মাঠে একেবারেই অপরিচিত নতুন দেশগুলোকে নিয়ে হাসাহাসি কম চলছ...

মনে তার নিত্য আসা-যাওয়া

ছবি
কি ছু কিছু মানুষ থাকেন যাঁরা খুব পরিচিত না হলেও দিব্যি আপনজন হয়ে ওঠেন। আর এই হয়ে ওঠা সম্ভব হয় ওই মানুষটির নিজস্ব জাদুকরী কৌশলেই। সেরকম একজন আপনজনের চলে যাওয়ার একযুগের বেশি সময় পূর্ণ হলো আজ ৩০ মে, ২০২৬ এ। ওঁর হঠাৎ চলে যাওয়ার দিনটিকে মনে করে এর আগে কখনো প্রকাশ্যে স্মরণে জানালায় দাঁড়াইনি। ঘড়ি-ঘন্টায় খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রিয়বন্ধুর জন্মদিন পড়ে যাওয়ায় জন্ম-মৃত্যুর দুটো দিন মনে মনেই স্মরণ করেছি—দুরকম অনুভূতির হাত ধরে। প্রিয় সেই বন্ধু, একান্ত অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিয়ে জীবন-মরণের সীমানা ছাড়িয়ে চলে গেছে দূরে… সব আড়াল ভেঙে আজ তাই প্রকাশ্যেই ভালোবাসার কথা জানাচ্ছি, প্রিয় ঋতুপর্ণ ঘোষ! এই নামটা উচ্চারণ করলে মনে হয় বাইরে বৃষ্টিভেজা জানালার কাচে প্রকৃতি বুঝি নরম আঙুলে গল্প লিখছে। আর ভেতরে, আলো-আঁধারি ড্রয়িংরুম জুড়ে বসেছে বৈঠকী আলাপ। মৃদুস্বরে আলাপের মধ্যমণিটি তাঁর কথার জাদুর মায়াজাল বিছিয়ে চলেছেন আন্তরিক ভঙ্গীতে। এমনটা তাঁর পক্ষেই সম্ভব, তিনি যে ঋতুপর্ণ ঘোষ! যে মানুষ নিছকই একজন চলচ্চিত্রকার নন; তিনি আমার মতো হাজারও বাঙালি মধ্যবিত্ত মনন, অবদমিত আকুলতা, লিঙ্গ-রাজনীতি, এবং সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানা...

ফুলগুলো সব যাচ্ছে ঝরে, সতর্ক হও...

ছবি
বাং লাদেশের হাম পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে। এটি এখন আর শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যগত সংকট নয়; এটি একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার দলিল। বিশেষ করে যখন ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা এই মহামারীর বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিল, তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সেই সতর্কতা আমলে না নেওয়া বা সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়া এই মৃত্যুমিছিলকে দীর্ঘায়িত করেছে। সরকারি হিসাবে চারশো এবং বেসরকারি হিসাবে আরও অসংখ্য শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য কাঠামোর নগ্ন রূপটিই ফুটিয়ে তুলছে। হামের প্রাদুর্ভাব হুট করে আকাশ থেকে পড়েনি। ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করেছিল যে, রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেখুনদারি সর্বস্ব পরিবর্তনের ডামাডোলে স্বাস্থ্য খাতের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমগুলো প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা জানালেও, নীতিনির্ধারকরা পতিত সরকার ও আওমীলীগকে যতভাবে সম্ভব টাইট দেবার, প্রশাসনিক রদবদল আর উচ্চপর্যায়ের সংস্কার সংস্কার খেলা নিয়ে এতই ব্যস্ত ছিলেন যে, তৃণমূলের শিশু...

যেতে যেতে মা বুঝি তাঁর ছায়া গেছে ফেলে...

ছবি
  “When I find myself in times of trouble, Mother Mary comes to me Speaking words of wisdom, let it be”-- Beatles এ দেশে আসার পর একদিন খেয়াল করলাম আকাশে ফুটে থাকা চাঁদটা অনেক গোলগাল আর আকারেও যেন বড়সড়। দেখতেও সুন্দর। দেশে থাকতে চাঁদকে এত কাছের মনে হয়নি তো! এ কথা শুনে মা হাসতেন। বলতেন, আমেরিকানরা চাঁদে গেছে তাই ওদের সঙ্গে সখ্যতা বেশি, চাঁদও বড়। তখন আমার সেলফোনটা ছিল গরিবের গরিব। ক্যামেরা না থাকায় বড়সড় চাঁদটাকে কখনো দেখানোর সুযোগ হয়নি মাকে। দুইপ্রান্তে বসে দুজন দিন রাতকে সামনে রেখে চাঁদের প্যাচাল করতাম। আগডুম-বাগডুম আরো কত কী যে গল্প করতাম। ভাবতাম, আর তো মাত্র কয়েকটা দিন–তারপর মা এখানে এলে, দুজন পাশাপাশি বসে চাঁদ দেখা যাবে। যদিও মা এদেশে স্থায়ীভাবে থাকতো না, নিজের দেশটা যে তাঁর জান। শিক্ষা-চাকরি ইত্যাদি সূত্রে বাবাকে দীর্ঘসময় ইউরোপের নানা দেশে থাকতে হয়েছে। আমাদের কারণে পাকাপাকিভাবে ওখানে গিয়ে থাকা মায়ের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তেমনটা হলে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি বলার সুযোগটা বড় ভাইবোনেরা বাদে আমরা হয়তো পেতাম না। শিকড়, ছেলেপুলে ইত্যাদির অজুহাতে মা বরাবর দেশে থাকতে চেয়েছেন। বাবাও যে খুব একটা বিদ...

বন্ধু হয়ে তুমি আছো যে দাঁড়ায়ে...

ছবি
  “… ল ম্বা আলখাল্লা জড়ানো দাড়িওয়ালা ঋষির মতন মানুষটার ছবির সামনে এসে দাঁড়ায় সে। বড়দা বলে, যখন মনে হবে বুকের ভেতর কষ্টগুলো কেবলই ভারী হচ্ছে, তখন এঁর বইয়ের কাছে আশ্রয় চাইবি।” কেবল গল্প-উপন্যাসের চরিত্র নয়; বাস্তবে, আমরা শতকোটি বাঙালি আপনার শব্দ-বাক্যের কাছে প্রতিদিন—প্রতি মুহূর্তে আশ্রয় চাই এবং পাই। আপনি আমাদের ভরসার জায়গায় ছিলেন-আছেন-থাকবেন। প্রিয় বুড়ো, শুভ জন্মদিন! প্রিয় একটি কবিতা: 'মিথ্যে কথা' -শঙ্খ ঘোষ লোকে আমায় ভালোই বলে দিব্যি চলনসই দোষের মধ্যে একটু নাকি মিথ্যে কথা কই। ঘাটশিলাতে যাবার পথে ট্রেন-ছুটছে যখন মায়ের কাছে বাবার কাছে করছি বকম বকম। হঠাৎ দেখি মাঠের মধ্যে চলন্ত সব গাছে এক একরকম ভঙ্গি ফোটে এক একরকম নাচে। “ওমা , দেখো নৃত্যনাট্য” -যেই বলেছি আমি মা বকে দেয় , “বড্ড তোমার বেড়েছে ফাজলামি।” চিড়িয়াখানার নাম জানো তো আমার সেজ মেসোর আদর করে দেখিয়ে দিলেন পশুরাজের কেশর। ক’দিন পরে চুন খসানো দেয়াল জুড়ে এ কী ঠিক অবিকল সেইরকমই মূর্তি যেন দেখি ? ক্লাসের মধ্যে যেই বলেছি সুরঞ্জনার কাছে “জানিস ? আমার ঘরের মধ্যে সিংহ বাঁধা আছে !” শুনতে পেয়ে দিদিমণি অমনি বলেন “শোন , এসব কথা আবার যেন না শুন...

বিদায় আমাদের যুদ্ধদিনের পরম বন্ধু, রঘু রাই...

ছবি
আমরা কি বিস্মৃত হতে ভালোবাসি? মানুষমাত্রই বিস্মৃত প্রিয়? কী ভুলতে চাই আমরা? মানুষ সাধারণত ক্ষতময় স্মৃতিকে ভুলে থাকায় স্বস্তি খোঁজে। স্মৃতির যে ক্ষত আমাদের অসুস্থ করে তোলে তাকে বিস্মৃত হওয়ায় স্বস্তি হয়তো আছে— তাতে আত্মার গহীন কোণে অস্বস্তি জমতে জমতে যে পাহাড় হয়ে ওঠে না, সেকথা বুকে কিল মেরে বলা সম্ভব নয়। হঠাৎ কেন স্মৃতি-বিস্মৃতি নিয়ে পড়লাম? একটা মৃত্যু কেমন অপরাধী করে তুললো। অস্বস্তি তৈরি হলো ভীষণ। মৃত্যুর সে খবর সামনে এসে হুট করে খুলে দিলো স্মৃতির দরজা। সেই দরজা বেয়ে সামনে এলো আমাদের সবচেয়ে গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের সাদাকালো গুচ্ছ গুচ্ছ ছবি। সময় যেখানে থমকে আছে। যুদ্ধদিনের সেসব স্থিরচিত্রে খুব বেশিসময় তাকিয়ে থাকা কষ্টের— বুকে ব্যথা ঘুরে ঘুরে কেবলি চিবুক নাড়ে: কত ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের স্বাধীনতা! কত লক্ষ-কোটি হা হাকারে বাতাস ভারী করে তবেই ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের ভূখণ্ডে নেমে এসেছিল চূড়ান্ত বিজয়! গুচ্ছ গুচ্ছ সেসব স্থিরচিত্রে বেশির ভাগটাই যাঁর ক্যামেরায় বন্দি হয়েছিল। যিনি পরম মমতায় সেই সময়কে তাঁর ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন— ওই সময় তাঁর তোলা ছবিগুলো ছাড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ভিজ্যুয়াল স্মৃ...

বাংলাদেশে হাম–সংকট: টিকাদান ব্যবস্থার পতন ও শিশু মৃত্যুর ট্র্যাজেডি

ছবি
গত পরশু রাতে দেখা Mardaani 3-এর কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। যেখানে একটি ভয়ংকর আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে ভারতের স্থানীয় একটি চক্র হাত মিলিয়ে দরিদ্র মেয়েশিশুদের অপহরণ করে। কিন্তু এসব শিশু অপহরণ শুধু পাচার বা যৌন নিপীড়নের জন্য না। তাদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করা হয় অবৈধ মেডিক্যাল ট্রায়ালে, সার্ভিকাল ক্যানসারের ওষুধ পরীক্ষায়। যার রয়েছে আন্তর্জাতিক বিশাল বাজার আর তা থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার উপার্জনের হাতছানি। হামের টিকার পেছনে তেমন কোনো ষড়যন্ত্র নেই তো! আমরা ঘরপোড়া গরু, সিঁদূরে মেঘ দেখলেই কেমন আতঙ্ক হয়। গত ১৮ মাসে মুহাম্মদ ইউনূস সংস্কারের নামে কম উন্নয়ন তো দেশটার করে যাননি! দেশটার ইঞ্চি ইঞ্চি জুড়ে খালি উন্নয়ন আর উন্নয়ন। বিদায় বেলাতেও তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন স্মরণযোগ্য এক উপহার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি! তার জন্য বাংলাদেশ প্রতিক্ষণে তাকে স্মরণ করবে। উন্নয়নের উচ্ছ্বাসে আমরা উদ্বাহু হয়ে গাইবো– আমি তোমারই, তোমারই, তোমারই নাম গাই… আমাদের বাঁশ দেসো তুমি! আমরা কতটা অবিবেচক নির্মম হতে পারি, শিশুদের জীবন নিয়েও রাজনীতি করতে দ্বিধা হয় না। কেন বলছি এমন কথা? দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আর নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোকে ...