পোস্টগুলি

আবোল তাবোল লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আলোহীন অন্ধকার

ছবি
দু দিন আগে বেগম রোকেয়ার জন্মদিন গেল। আমাদের বাঙালি সমাজের একটা অংশ তাঁর প্রতি যেমন শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, অন্য আরেকটা অংশ জানিয়েছেন তীব্র ক্ষোভ বা ঘৃণা। একজন বেগম রোকেয়াকে অসম্মানিত হতে দেখে বোধসম্পন্ন মানুষ মাত্রের ব্যথিত-বিস্মিত হওয়া স্বাভাবিক। প্রশ্ন হচ্ছে এটি কি আদৌও নতুন ঘটনা? গত বছর বেগম রোকেয়াকে ঘিরে অসম্মানের একটা আবর্তন তৈরি হলেও এবছরও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে ভাবিনি। যদিও তাঁর জীবদ্দশায় রোকেয়াকে সমাজের রক্তচক্ষু সহ্য করেই এগোতে হয়েছিল। এমনকী মৃত্যুর পর কলকাতায় তাঁকে কবরস্থ পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি। একদল ধর্মান্ধ ফতোয়াবাজ মৃতকে নূন্যতম সম্মান জানানোর পরিবর্তে করেছিল চরম অপমান। তাদের ক্ষোভ ছিল রোকেয়ার ওপর। কারণ তিনি মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন তাঁর লেখালিখি আর কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে। নারীমাত্রই অন্তঃপুরবাসিনী নন, সেকথা গলা তুলে বলেছিলেন। তাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ভগিনীরা! চক্ষু রগড়াইয়া জাগিয়া উঠুন, অগ্রসর হউন! মাথা ঠুকিয়া বলো মা! আমরা পশু নই; বলো ভগিনী! আমরা আসবাব নই; বলো কন্যে আমরা জড়োয়া অলঙ্কাররূপে লোহার সিন্ধুকে আবদ্ধ থাকিবার বস্তু নই; সকলে সমস্বরে বলো আমরা মানুষ।...

অকাজের কচড়া

ছবি
ঘ ন দুধের চায়ে চুমুক দিতে গিয়ে মনে হলো- স্মৃতি ভদ্র হিন্দু হয়ে এরকম চা পান করে, আমি মুসলমান, এমন চা পান করা কি ঠিক হবে! আড়ালের দৃর্মতির উদ্দেশ্যে উইঙ্ক ছুঁড়ে দিয়ে চায়ের কাপে আয়েশি চুমুক দিলাম। নেটফ্লিক্সে নতুন সিরিজ দেখতে বসে মনে হলো- স্মৃতি ভদ্র হিন্দু হয়ে একই প্ল্যাটফর্মে ছবিটবি দেখে আমি মুসলমান একই সাইটে জমা রাখি সময় খরচের আনন্দ। দুষ্টু ভাবনা ভাসান দিয়ে ইতালিয়ান সিরিজে ডুবে গেলাম। রুটিন মাফিক লিখতে বসে মনে হলো- স্মৃতি ভদ্র হিন্দু হয়ে লেখালিখি করে, মুসলমান আমিও কিছুমিছু লেখার চেষ্টা করি ধর্ম ভুলে আমরা এপথের পথিক বহুদিন। ইদানীং মুক্তিযুদ্ধ,, শেখমুজিব, এসব শব্দের ভেতর ভূত দেখছে অনেকেই– হিন্দু স্মৃতি ভদ্র আর মুসলমান আমি, ওসব শব্দের ভেতর খুঁজে পাই নিজেদের অস্তিত্বের ভিটেমাটি, স্পষ্ট চোখে দেখি অহঙ্কারী তর্জনীর ইশারা। ধর্মের বিষাক্ত চোখকে ভেংচি কেটে আমরা কণ্ঠে কণ্ঠ মেলাই– উচ্চারণ করি প্রাণের স্লোগান: জয়বাংলা! [কিয়াস আহমেদের 'আমার কাঁধে একটি ধর্ম' অবলম্বনে রচনা: ২৩ অক্টোবর, ২০২৪] ছবি: এ আইয়ের তৈরি