পোস্টগুলি

চলচ্চিত্র লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক

ছবি
ই তিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন রাষ্ট্রের আইন আর মানুষের বিবেক একে অপরের বিপরীতে দাঁড়ায়। Netflix-এর ‘23,000 Lives’ সেই সংঘাতেরই এক জীবন্ত দলিল। এখানে কিছু তরুণ সমুদ্রের দিকে ছুটে যায় শুধু এই বিশ্বাস নিয়ে যে মানুষের জীবন বাঁচানো কোনো রাজনৈতিক অপরাধ নয়, বরং মানবিকতার দিক থেকে এটি তার মৌলিক দায়িত্ব। জার্মানির কিছু দরদী তরুণ মিলে ২০১৬’র দিকে তৈরি করে Jugend Rettet নামে একটি ছোট্ট NGO, যার লক্ষ্য ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের উদ্ধার করা। এই উদ্যোগে তারা কোনো সরকারি প্রশিক্ষণ পায়নি, কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও জোটেনি। শেষমেশ ক্রাউড-ফান্ডের অর্থে তাদের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়; যার আওতায় একটি ব্যবহৃত মাছ ধরার জাহাজ কিনে ভূমধ্যসাগরে নিয়ে যাওয়া হয় যাতে ডুবন্ত প্রায় শরণার্থীদের পানি থেকে উদ্ধার করা যায়। লুকাস এবং তার দলের প্রধান কাজ ছিল যে মানুষগুলো বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে ডিঙ্গিতে চড়ে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে, তাদের নিরাপদে তুলে আনা। কিন্তু তাদের এই কাজই রাষ্ট্রের চোখে হয়ে ওঠে অপরাধ। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তার সার্বভৌমত্বকে এতটাই মূল্যবান মনে করে যে মানুষের জীবন কখনো কখনো সেই সার...

The Six Triple Eight

ছবি
‘চিঠির প্রেরক ভাইয়া-বাবা, প্রাপক গোটা দেশ একবাক্যে চিঠি শুরু একবাক্যেই শেষ। চিঠির ভেতর একটা মোটে কথা, এই নে স্বাধীনতা।’ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে স্বাধীনতার চিঠি পেয়েছিল বাংলাদেশ। একাত্তরের যুদ্ধময় সেই দিনগুলোতে যোদ্ধারা কতভাবেই না প্রিয়জনের কাছে চিঠির হাত ধরে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তাঁদের বার্তা। পোস্ট অফিসগুলো তখন অধিকাংশই বিকল, পোস্টম্যান অনেকেই হয়তো হত্যার শিকার। কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে সরে গেছেন নিরাপদ কোথাও। কিংবা যোগ দিয়েছেন স্বাধীনতার যুদ্ধে। যুদ্ধরত মানুষগুলোর চিঠি যাওয়া-আসা করতো তাঁদের কোনো সহযোদ্ধা বা পরিচিত কারো মাধ্যমে। বহু পথ পেরিয়ে, কৌশলের আশ্রয় নিয়ে হতো চিঠির লেনদেন। ‘একাত্তরের চিঠি’ বইটিতে সেরকম প্রচুর বিষাদঘন চিঠি আছে। যুদ্ধ মানেই শত্রু শত্রু খেলা– স্বাভাবিকত্বের বনবাস। তা সত্ত্বেও প্রিয়জনের কাছে খবরাখবর পৌঁছানোর আকুতির মুখে তো লাগাম পরানো সম্ভব না। যুদ্ধের ময়দানে লড়াকু একজন সৈনিক তিনি যতই জাঁহাবাজ হন না কেন, প্রিয়জনের বিচ্ছেদে ভেতরে ভেতরে ঠিকই তিনি/তাঁরা মুষড়ে থাকেন। পরিবার পরিজন ছেড়ে আসা সৈন্যদের মনোবল চাঙ্গা করার মহৌষধ প্রিয়জনের কাছ থেকে পাওয়া চিঠি। অন্যদিকে যেসব বাড়ি...

The Children's Train

ছবি
  The Children's Train দেখলাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে সিনেমা। যুদ্ধের সিনেমার প্রতি বরাবরের দুর্বলতা। যুদ্ধকালীন মনুষ্য চরিত্র খুঁটিয়ে দেখার এবং বোঝার চেষ্টা করি। যুদ্ধ বা ক্রান্তিকালে মানুষের দুটো সত্তাই প্রকট হয়। তার ভেতরের দানব কিংবা দেবতা পরিস্হিতি ঘোলাটে কিংবা সামালের তাগিদ নিয়ে বুঝি বেরিয়ে আসে। এ যাবত বহু যুদ্ধের সিনেমা দেখেছি(I'm not showing off. )। সেসব ঘটনার খাপে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বসানোর চেষ্টা করি প্রায়শই। চিলড্রেন'স ট্রেন দেখতে গিয়ে যেমন ভাবছিলাম, এমনটা যদি একাত্তরে ঘটতো, তাহলে কী হতে পারতো। এক ভারত ছাড়া আর কেউ কি ট্রেন অফ হ্যাপিনেসের সদিচ্ছায় এগিয়ে আসতো? আজকে যারা মহামান্যের ইয়ারবকশি, তাদের সংগঠন আলবদর আলশামসেরা ট্রেন ভরতি শিশুগুলোকে নিয়ে কী করতো? ভাবতে গিয়ে শিউরে উঠেছি। ভাবনা মূলতবি রেখে হাঁড় জিরজিরে আমেরিগোর পিছু নিয়েছি। Trains of Happiness বা Treni della Felicità, আমাদের সেই গন্তব্যে নিয়ে যায়, যার গহিণে জমা আছে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কষ্ট, প্রাপ্তির আনন্দ, যুদ্ধ পরবর্তী হামুখো দারিদ্রে ডুবে থাকা একটা সমাজ,কমিউনিস্ট শাসন ঘিরে গুজব, ইত্যাদি নানামুখী...

স্মৃতিমেদুর এক সরল, আনন্দ ভ্রমণ

ছবি
আ মাদের জীবনের প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কাটানো ভালো সময়গুলো নিয়ে স্মৃতিচারণের সুযোগ কতবারই বা আসে? কিংবা ব্যস্ততা ভুলে সেসব ভাববার অবকাশই বা যেচে কজন হাত পেতে নেই? সংসারে বা আমাদের আশপাশে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যারা নিঃস্বার্থভাবে আমাদের ওপর ভালোবাসা উপুড় করে দেন, তারা যে কেউ হতে পারেন। হতে পারেন রক্তের সম্পর্কের, পারিবারিকসূত্রে চেনা বন্ধু,  দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী, অথবা হয়তো এমন কোনো অজানা মানুষ যিনি বিপদের সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা কি সেই মানুষটিকে সেভাবে মনে রাখি? নাকি বিপদ কেটে গেলে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যান? কখনো কি এটা ভাববার ফুরসত আমাদের হয়, পেয়ে যাওয়া কারো কোনো ছোট্ট উপকার আমার/আমাদের জীবনের বাঁক বদলে দিয়েছিল। জানাই তাকে তার প্রাপ্য কৃতজ্ঞতাটুকু? মানছি, জীবন আমাদেরকে নানা পর্যায় দিয়ে এগিয়ে যেতে বাধ্য করে, যার ফলে এসব স্মৃতিগুলো ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়, যখন আমরা শুধুই টিকে থাকার যুদ্ধের মধ্যে হারিয়ে যাই। হয়তো মনে মনে নিরন্তর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে নত থাকি সেই মানুষটির প্রতি- কিন্তু বাস্তবতার কারণে তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। কিন্তু যদি সে সুযোগটা সামনে এসে দাঁড়ায় তখন যেন মিছে...