পোস্টগুলি

জুন, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শোকার্ত তুরাগের পাড়ে গেয়ে যায় দারবিশের বাউল

ছবি
তু রাগ হয়তো ভবিষ্যতেও বয়ে যাবে। সময়ের দাগ কামড় বসাবে শরীরে। ওর জলের অতলে লুকানো জলের দাগ! জল না কি রক্ত? সন্তর্পণে সাক্ষী দিয়ে যাবে নামহীন অসংখ্য মৃত্যুর। একদিন কি তাকে কহর দরিয়া নামে ডাকা হবে? কষ্টচাপা নদী, যার প্রতিটি ঢেউয়ের নিভৃত ভাঁজে থাকে কষ্টের গোপন দলিল, তাকে তো এমন নামেই মানায়! নদীকে যখন জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করা হলো, আমরা ধরে নিলাম বুঝি তাকে মানুষের মতো অধিকার দিলাম, অথচ মানুষের অধিকার মানুষের কাছেই আর রইল না। ফেব্রুয়ারির বাতাসে প্রথম রক্তের গন্ধ, মার্চে তালিকা, এপ্রিলের বৈশাখে হাসপাতালের শীতল বিছানা, মে মাসে ফ্লাইওভারের নিচে ঝুলে থাকা শরীর—সবই যেন তুরাগের বুকের ওপর একটি, একটি করে দাগ হয়ে জমা রইল। ভোল বদলে পারদর্শী মানুষের কাণ্ড যেমন সে দেখেছে, একই মুদ্রার নির্লিপ্তি নিয়ে দেখেছে লাশের ভাসান। মায়ের শরীর ভেঙে পড়েছিল মৃত ছেলের ওপর, জন্মদিনের কেকের মোমবাতি নিভে গিয়েছিল রডের আঘাতে, জেলখানার দেয়াল গিলে ফেলেছিল অসংখ্য শ্বাস। তুরাগ দম আটকে শুনেছে কেবল সে আর্তনাদ, অসহায়ত্ব নিয়ে চোখ বুঁজে ফেলেছিল বুঝি জান্তব জিঘাংসার হলিখেলায়। ওর বেয়াড়া কিছু ঢেউ নিষেধের আজ্ঞা ভুলে অস্ফুটে বলে ওঠেছে ‘আমি-আ...

ইডি নিউম্যানের সঙ্গে কথোপকথন

ছবি
সাক্ষাৎকার বুঝি আত্মপ্রকাশের একটা দরজা খুলে দেবার মতো ব্যাপার। দুজন(কখনো কখনো দুইয়ের অধিক) মানুষের কথোপকথনে প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে উঠে আসে অনেক কথা, স্মৃতি আর গল্পের বীজ। এতদিন সাক্ষাৎকারগ্রহীতা হিসেবে বেশ কয়েকজন সাহিত্যিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তাঁদের সবাই লেখালিখির ক্ষেত্রে উজ্জ্বল এবং বিস্ময় জাগানোর মতো রয়েছে তাঁদের ভক্তপাঠক। তার কিস্যুই নাহার তৃণার নেই। সংগ্রহের যে ব্যাপক বিশাল আগ্রহ আছে তাও নয়। গতবছর পর্যন্ত সাহিত্যে নোবেলখানা কোন উপায়ে বগলদাবা করা যায়, সেটি নিয়ে ভাবতেম। নোবেলপ্রাপ্তি নিয়ে কোনো এক ভিনদেশি সাহিত্যিকের মতামত জানার পর ‘নাআআ এ হতে পারে না’ বলে সেস্বপ্ন ভাসান দিয়েছি। মাথা খারাপ নাকি! কাড়ি কাড়ি সাক্ষাৎকার দেওয়া লাগবে। আজ এই অনুষ্ঠানে যাও, কাল ওইখানে গিয়ে বলো: যখন ফোনটি এলো, আমি তখন আনন্দ নাড়ুতে সবেমাত্র কামড় বসিয়েছি! প্রশ্নকর্তা চোখ মটকে হয়তো বলতে চাইবেন, আরে না, না, ওই ফোন আপনাকে যখন করা হবে তখন হয়তো ওখানে গভীর রাত… তো? যার রাত জাগার অভ্যেস, সে না ঘুমিয়ে নাড়ু খেতে পারে না? যুক্তির মুখে চুনকালি! মোদ্দাকথা, সাক্ষাৎকারের নামে একঘর লোকের সামনে লেখালিখি নিয়ে বলতে হবে...

নব্বই মিনিটের যুদ্ধ এবং আড়ালে থাকা রাজনীতি-মানচিত্র

ছবি
হ ইহই করে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে। মাঠের ফুটবল গড়িয়ে হাটে-ঘাটে, অলিতে-গলিতে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। বাড়ির যে মানুষগুলোকে পেটের জন্য অফিসে উপস্থিতি দেখাতে হচ্ছে, তারা অফিসে যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু মন পড়ে রয়েছে টিভির সূচিতে, ফুটবল মাঠে। ছেলে-বুড়ো সবাই বুঁদ হয়ে আছেন এখন ফুটবল-ফুটবল শোরগোলে। আয়োজক তিনটি দেশে চলছে ২০২৬ এর বিশ্বকাপ ফুটবল। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ স্টেডিয়ামগুলোর টিকিট ও মাঠের ভেতরের আনুষঙ্গিক খরচ এবং খেলা দেখার সামগ্রিক আয়োজন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। মাঠে বসে দেখার জন্য যে টিকিট, তার দাম আকাশছোঁয়া; সে তুলনায় পয়সা দিয়ে হলেও ঘরে বসে খেলা দেখা মন্দ নয়। বাজার অর্থনীতির মাথায় আগুন লেগেছে, তাই আয়োজক দেশে খেলা দেখার জন্য অনেককে কাঁড়ি কাঁড়ি পয়সা গুণে তবেই নিশ্চিত হচ্ছে বিশ্বকাপ উপভোগের আনন্দ। ২০২৬ বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮টি দেশ করা হয়েছে। নতুন যোগ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চারটি হলো: কেপ ভার্দে, কুরাসাও (সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়েছে), জর্ডান, উজবেকিস্তান। ফুটবলের মাঠে একেবারেই অপরিচিত নতুন দেশগুলোকে নিয়ে হাসাহাসি কম চলছ...

অতিচিন্তা: চক্রব্যূহের অভিশাপ

ছবি
আ মরা অনেকেই অতিরিক্ত চিন্তার জালে জড়িয়ে খামোখাই ক্লান্ত হই। হয়তো প্রকৃত ঘটনার অনুবাদ সম্পূর্ণই ভিন্ন; না বোঝার ফলে সেটা আত্মক্ষরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যা শুধু পোড়ায় না, যথেষ্ট সময় নষ্টেরও কারণ হয়। এমন ঘটনায় আমিও যে জড়াই না তা নয়, তবে বিভ্রান্তির জাল মেরেকেটে দ্রুত বেরিয়ে পরার একটা বিল্টইন প্রসেস নিজের ভেতর থাকায় ভোগান্তি কম হয়। এমন সব বিষয় যা আমাদের অতিরিক্ত চিন্তার লুপে প্রলুব্ধ করে, সেরকম বিষয়বস্তু নিয়ে Eckhart Tolle প্রচুর লেখাজোখা করেন। ইনি অনেকের কাছে Modern spiritual philosopher হিসেবে পরিচিত। তাঁর ‘The Power of Now’ বা ‘A New Earth’ ব্যাপাক পাঠকপ্রিয় বই। এই বইগুলোতে তিনি আমাদের চিন্তার প্রকৃতি, অহং (ego), অতিরিক্ত চিন্তায় সময় নষ্ট না করে বর্তমান মুহূর্তে থাকা, মানসিক কষ্টের উৎস ইত্যাদি দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত বিষয়আশয় নিয়ে বলেছেন। তাঁর বলবার ভঙ্গিটি সরল এবং কিছুটা গল্পকথকের মতো। 'দ্য পাওয়ার অফ নাও' বইটিতে হার্ট টোল এমন একটা অভিজ্ঞতা গল্পচ্ছলে বলেছেন যা অনেকটা এরকম:  এক লোক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় রাস্তার উল্টো দিকে পরিচিত একজনকে দেখতে পেলেন। তিনি হাত নেড়ে ত...