বাঁচি না কেন বাঁচার আনন্দেই...
আমরা প্রচুর কাঠখড় পুড়িয়ে জীবনভর গাম্ভীর্যের এক নিরেট দুর্গ গড়ে তুলতেই যেন ব্যস্ত থাকি। কেননা, নিরন্তর সজাগ এই পৃথিবীর চোখে কোনোভাবেই আনাড়ি, অপ্রস্তুত বা তুচ্ছ প্রতিপন্ন হওয়ার লজ্জা আমাদের সয় না। আর সেই ভয় মেটাডরের মতো শিং উঁচিয়ে আমাদের তাড়া করে বেড়ায়। আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে শান দিই, মর্যাদাকে আঁকড়ে থাকি এবং প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত মেপেজুখে উচ্চারণ করি। ভাবখানা এমন, যেন এইধারা রক্ষা করা গেলে জীবনবাবাজির গলায় যাবতীয় বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে রক্ষাকবজের মাদুলি হয়ে জুটে যাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের শক্তি। অথচ, অবিরাম সংযত ও স্থির থাকার এই প্রচেষ্টায় আমরা প্রায়শই নিজেদের অহংকারের বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়ি। আমরা আড়ষ্টতাকে শক্তি এবং বিদ্রূপাত্মক মনোভাবকে প্রজ্ঞা বলে ভুল করি। অথচ ভুলে যাই, জেলবন্দি কয়েদির মতো বানোয়াট সেই নিয়ন্ত্রণ নামের মুখোশের আড়ালে কাটানো জীবন আদতে লাবণ্য, বিস্ময় এবং স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের স্বাদ থেকে বঞ্চিত এক নিরস জীবন। এই ফাঁপা জীবনকে পাশ কটিয়ে বাঁচার আনন্দে বাঁচতে শেখার গুরুত্ব আ্যালডাস হ্যাক্সলির ভাবনা-চিন্তায় প্রকট। পান থেকে চুণ খসে পড়লেই জীবন হায় হায় করে হাত গ’লে গভীর কুয়োতে যে পতিত হয় ...