পোস্টগুলি

বোবার শত্রু বোবা নিজেই!

ছবি
বাংলাদেশের জল-মাটি-বাতাস জুড়ে নিরন্তর চলে সুরের কোলাহল। এই কোলাহল, গোলমালের বিপরীত গোলার্ধের এক অপার্থিব উদযাপন। এর সাথে বাংলাদেশ নামের বদ্বীপ অঞ্চলের রয়েছে নাড়ীর যোগ। এ তার আত্মার একান্ত খোরাক। এদেশের মাঝিমল্লা জলের বুকে নৌকা ভাসায় সুরের মূর্ছনা তুলে। জলের ঢেউ তাতে সঙ্গত করে যায় আপন মনে। ঠেলা বা রিকশাচালক সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে যান গানের ভেতর ডুব দিয়ে। এদেশের হাটে-মাঠে-ঘাটে সুরের নিত্য আসা যাওয়া। এমন একটা দেশ থেকে সংগীত বা সুর লোপাটের হুজ্জুত কেন তৈরি হলো? কাদের স্বার্থে? সংগীত যাঁদের ধ্যান-জ্ঞান, তাঁদের অনুভূতি নেই? তাঁদের অনুভূতি নিয়ে ঘন ঘন জান্তব আস্ফালন কেন দেখতে হচ্ছে বাংলাদেশকে? বর্তমানে বাংলাদেশে সংগীতচর্চার ওপর যে অস্বস্তিকর চাপ ক্রমশ বাড়ছে, তা আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হয় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কনসার্ট বাতিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ, সংগীতশিক্ষার পদ বাতিল—এসব যেন এক অদৃশ্য কলকাঠির দৃশ্যমান প্রবণতার অংশ হয়ে উঠেছে। আর সেই প্রবণতার ভয়াবহতম প্রতীক হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে ‘ভাইরাল’ হওয়া একটি ভিডিও। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বিশেষ ‘লেবাস পরিহিত’ কয়েকজন তরুণ হারমনিয়াম-তবলা ভাঙছে লাথি দিয়...

সম্পাদকীয়: পাঠভাবনা

ছবি
নি সর্গের আগস্ট সংখ্যার সম্পাদকীয়টি বিগত দুই-আড়াই বছরে পড়া সাহসী এবং বস্তুনিষ্ঠ একটি সম্পাদকীয় কলাম। একটি পত্রিকার সম্পাদকীয় কেবল একটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং তা সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিফলন। নিসর্গের এ সংখ্যার সম্পাদকীয় কলামে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে প্রথমেই আঙুল তোলা হয়েছে মব জাস্টিস এবং ধর্মান্ধতার বিভৎসতার দিকে। পুরনো কোনো ঘটনার জের ধরে কিংবা গুজবকে কেন্দ্র করে যখন প্রকাশ্যে মানুষকে হত্যা করা হয় এবং আইনের শাসন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে, তখন তা সমাজকে এক চরম অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। একই সাথে সুস্থ বিনোদন বা গান-বাজনাকে ‘অসামাজিক’ তকমা দিয়ে নিষিদ্ধ করার পাঁয়তারা মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য মারাত্মক হুমকি। এই মনস্তত্ত্ব সমাজকে পেছনের দিকে নিয়ে যায়। পৌঁছে দিতে চায় বর্তমান আফগানিস্তান সমপযার্য়ের কোনো ভূখণ্ডে। রাজনীতি ও ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে শ্রদ্ধেয় সম্পাদক যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন, তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জায়গা থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের একটি বড় রাজনৈতিক অংশ বা সাধারণ সমর্থকগোষ্ঠীকে কেবল প্রশাসনিক ঘোষণা বা বক্তব্যের ম...

মাটির মূর্তিই ভেঙেছে তোমার...

মা টির মূর্তি ভেঙেছে তোমার? ভয় নেই বঙ্গবন্ধু, আমরা এখনো অগুনতি সন্তান রয়েছি তো! ভগ্ন হৃদয়, বিষণ্ণতায় জর্জর আছি সত্যি তবুও জেনো, রুদ্ধ হয়নি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতার স্বর একাত্তরে মুছতে তোমাকে পারেনি পাকিস্তানি জান্তা আজকে তাদের প্রেতাত্মারাই ভাঙছে তোমার মূর্তি ওগুলো পাথর কিংবা মাটির কাঠামো, নিমেষেই হয় তছনছ কালের মুঠোয় অক্ষত আছে তোমার তর্জনীর ইশারা, সে অজর! পাঁজরে পাঁজরে শিখাঅনির্বাণ সাত মার্চের ভাষণ কালের সে সাক্ষী পারবে মুছতে লাল দুঃশাসন? বাংলার মাটি, বাংলার জল, আছো তুমি সবে মিশে তোমাদের আনা স্বাধীনদেশটা এখনো আছে দাঁড়িয়ে  আছে লক্ষ সন্তান, তোমার ভাবনা কিসে! প্রনতি জেনো সেই ছেলেমেয়ের আজকে বিষাদ দিনে- অদৃশ্যে তারা রেখে গেল  অশ্রু-আগুন ফুল।  

বাঁচি না কেন বাঁচার আনন্দেই...

ছবি
আমরা প্রচুর কাঠখড় পুড়িয়ে জীবনভর গাম্ভীর্যের এক নিরেট দুর্গ গড়ে তুলতেই যেন ব্যস্ত থাকি। কেননা, নিরন্তর সজাগ এই পৃথিবীর চোখে কোনোভাবেই আনাড়ি, অপ্রস্তুত বা তুচ্ছ প্রতিপন্ন হওয়ার লজ্জা আমাদের সয় না। আর সেই ভয় মেটাডরের মতো শিং উঁচিয়ে আমাদের তাড়া করে বেড়ায়। আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে শান দিই, মর্যাদাকে আঁকড়ে থাকি এবং প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত মেপেজুখে উচ্চারণ করি। ভাবখানা এমন, যেন এইধারা রক্ষা করা গেলে জীবনবাবাজির গলায় যাবতীয় বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে রক্ষাকবজের মাদুলি হয়ে জুটে যাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের শক্তি। অথচ, অবিরাম সংযত ও স্থির থাকার এই প্রচেষ্টায় আমরা প্রায়শই নিজেদের অহংকারের বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়ি। আমরা আড়ষ্টতাকে শক্তি এবং বিদ্রূপাত্মক মনোভাবকে প্রজ্ঞা বলে ভুল করি। অথচ ভুলে যাই, জেলবন্দি কয়েদির মতো বানোয়াট সেই নিয়ন্ত্রণ নামের মুখোশের আড়ালে কাটানো জীবন আদতে লাবণ্য, বিস্ময় এবং স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের স্বাদ থেকে বঞ্চিত এক নিরস জীবন। এই ফাঁপা জীবনকে পাশ কটিয়ে বাঁচার আনন্দে বাঁচতে শেখার গুরুত্ব আ্যালডাস হ্যাক্সলির ভাবনা-চিন্তায় প্রকট। পান থেকে চুণ খসে পড়লেই জীবন হায় হায় করে হাত গ’লে গভীর কুয়োতে যে পতিত হয় ...

মাটির মূর্তি ভাঙা সহজ, ইতিহাস মোছাও কি?

ছবি
এ ই ঘটনা জুলাই ২০২৬-এর; কোনো এক স্কুলের শিশু শ্রেণির ছেলেমেয়েদের দুহাজার চব্বিশের জুলাই-এ নিহত আবু সাঈদের ছবি আঁকতে বলা হয়েছিল। কতই বা বয়স ওদের! কে শহীদ, কে বীর, এসব বোঝার ক্ষমতা এই বয়সে ওদের ভেতর তৈরি হওয়ার কথা নয়। বোধটা যেন তৈরি হয় সেজন্য ওদের তৈরি করা প্রয়োজন বইকি। তৈরির এই ধাপ পরিবার এবং স্কুল, দুই স্থানেই হতে পারে। ইতিহাসের প্রতি সৎ থেকে দেশের জাতীয় বীরদের গল্প শিশুদের বলা জরুরি। ওদের ধারণক্ষমতা বুঝেই ইতিহাসের পাঠদান চলতে পারে। বলা যেতে পারে আমাদের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের গল্প। তাঁদের আত্মত্যাগ রূপকথা মনে হলেও তা যে একবিন্দুও বানোয়াট নয়, তার সত্যতা ইতিহাস ধারণ করে আছে। শিশু শ্রেণির শিশুরা এখনই সেসব বুঝবে না। কিন্তু ছোটবেলা থেকে যদি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বীরশ্রেষ্ঠ এসব গল্পগুলো সহজবোধ্য করে শোনানো যায় তাতে করে শিশুমনে দেশের জন্য জীবন দেওয়া বীরদের প্রতি যেমন শ্রদ্ধা-মমতা তৈরি হবে; পাশাপাশি ইতিহাসকে গুরুত্ব দেবার প্রবণতার বীজটিও পুঁতে দেওয়া সম্ভব হবে। ইতিহাস বিমুখ জাতি হালহীন নৌকার মতো লক্ষ্যহীন গন্তব্যের যাত্রী। ইতিহাসবিমুখতা আমাদের আগামীর কাণ্ডারী হোক সেটা নিশ্চয়ই আমরা চাইবো না। শিশুমনে ই...

Thoughts of time

ছবি
"I lost my lost saints in pieces. With some, their voices eroded slowly then quickly like graveyards on seaside cliffs crumbling into ocean. Some began shaking: their hands, then arms, then legs. Some stood up when they could not stand and fell because it was too late for the miracles they could not perform. Some waited too long to see the doctor. All arrived at the hospital too late. One did not return with the martins he loved to the churches of Krakow. One unspooled tire tracks in the snow like a long staff of sad music the night he drove away to try to no longer be a saint. Some turned out to be so evil they’ve been rewritten as monsters, devils, people I wish I had never met." I did not write this poem. The people in the poem have vanished amidst various shocks and upheavals. Yet, the poem itself is essentially about that very act of vanishing...Yet, the lines seemed to articulate my or perhaps our—own unspoken sentiments. Yes, I too have lost my kindred spirits, one by ...

দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক

ছবি
ই তিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন রাষ্ট্রের আইন আর মানুষের বিবেক একে অপরের বিপরীতে দাঁড়ায়। Netflix-এর ‘23,000 Lives’ সেই সংঘাতেরই এক জীবন্ত দলিল। এখানে কিছু তরুণ সমুদ্রের দিকে ছুটে যায় শুধু এই বিশ্বাস নিয়ে যে মানুষের জীবন বাঁচানো কোনো রাজনৈতিক অপরাধ নয়, বরং মানবিকতার দিক থেকে এটি তার মৌলিক দায়িত্ব। জার্মানির কিছু দরদী তরুণ মিলে ২০১৬’র দিকে তৈরি করে Jugend Rettet নামে একটি ছোট্ট NGO, যার লক্ষ্য ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের উদ্ধার করা। এই উদ্যোগে তারা কোনো সরকারি প্রশিক্ষণ পায়নি, কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও জোটেনি। শেষমেশ ক্রাউড-ফান্ডের অর্থে তাদের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়; যার আওতায় একটি ব্যবহৃত মাছ ধরার জাহাজ কিনে ভূমধ্যসাগরে নিয়ে যাওয়া হয় যাতে ডুবন্ত প্রায় শরণার্থীদের পানি থেকে উদ্ধার করা যায়। লুকাস এবং তার দলের প্রধান কাজ ছিল যে মানুষগুলো বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে ডিঙ্গিতে চড়ে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে, তাদের নিরাপদে তুলে আনা। কিন্তু তাদের এই কাজই রাষ্ট্রের চোখে হয়ে ওঠে অপরাধ। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তার সার্বভৌমত্বকে এতটাই মূল্যবান মনে করে যে মানুষের জীবন কখনো কখনো সেই সার...