পোস্টগুলি

শিরোনামহীন

ছবি
  বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ। পুজো মানেই আনন্দ নাড়ু, ছেলেবেলার রমাদির সঙ্গে দাপিয়ে বেড়ানোর স্মৃতি। ওসব দিন কবেই ভাসানে গেছে। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বুলি বৈ আর কিছু নয়। পুজোর উৎসবে পাড়া-মহল্লাগুলো আগের মতো গমগমিয়ে জেগে না উঠলেও নিয়ম মেনে উৎসবকে নিজের মতো করে আরো রঙিন করতে কতিপয় বরাহের উৎসাহের সীমা থাকে না। তারা ঘোৎ ঘোৎ করতে করতে, পুজোর শুরুতেই মাঠে নেমে পড়ে। এ বছরও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। তাদের উৎসবে ‘জেগে ওঠা’র খবর আর কতটুকুই আমরা পাই! ‘সংখ্যালঘু’ শব্দের মতো অভিশপ্ত শব্দ বাংলা অভিধানে মনে হয় আর দ্বিতীয়টি নেই! নিজের দেশে পরবাসী হয়ে ঝিনুক কষ্ট বয়ে বেড়ানো কতটা যন্ত্রণার, সে ভুক্তভোগী ভিন্ন কারো বোঝার কথা নয়। আমরা সেই বোধের ধারেকাছেও ঘেষতে নারাজ। প্রতিবছর নিয়ম করে পুজোমণ্ডপে ভাঙচুর হয়, আমরা নিয়ম করে 'আহা উহু'র দায়িত্ব পালন করি। আমাদের বোধবুদ্ধি ভোঁতা, ইন্দ্রিয়শক্তি অকেজো। মানুষের মগজ পচার বদ গন্ধ নাকের সীমানায় ঘুরপাক খেয়ে কোথায় একটা হারিয়ে যায়। দূর থেকে ভেসে আসে বালকের পাঠ... বালক বিখ্যাত এক কবিতা আওড়াচ্ছে, খুব চেনা সে কবিতা। অথচ কাছাকাছি এসে দিব্যি সে কেমন অন্য এক অনুবাদ হয়ে শরতের হাওয়া...

Prayers for Nepal

ছবি
The news of Nepal’s devastating disaster is enough to weigh down any heart. In a single moment, a massive glacial collapse swept away countless lives, and the true number of the missing is still unknown. Many had gone there on vacation—drawn by generous landscapes, mountains, and rivers. Some were pilgrims traveling toward Kailash–Manasarovar. Others were there with family, or with friends, fulfilling long‑held dreams. None of them could have imagined the fury quietly gathering in the heart of nature. In an instant, the same benevolent mountains turned merciless, shattering everything in their path. Alongside local residents, many tourists and pilgrims are still missing. The number of foreign visitors caught in the disaster is tragically high. Across Nepal and Tibet, more than three hundred lives have already been lost, and the number of missing is nearing fifteen hundred. Among them are over five hundred foreign travelers Americans, Europeans, Indians, and Chinese pilgrims. Within jus...

বোবার শত্রু বোবা নিজেই!

ছবি
বাংলাদেশের জল-মাটি-বাতাস জুড়ে নিরন্তর চলে সুরের কোলাহল। এই কোলাহল, গোলমালের বিপরীত গোলার্ধের এক অপার্থিব উদযাপন। এর সাথে বাংলাদেশ নামের বদ্বীপ অঞ্চলের রয়েছে নাড়ীর যোগ। এ তার আত্মার একান্ত খোরাক। এদেশের মাঝিমল্লা জলের বুকে নৌকা ভাসায় সুরের মূর্ছনা তুলে। জলের ঢেউ তাতে সঙ্গত করে যায় আপন মনে। ঠেলা বা রিকশাচালক সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে যান গানের ভেতর ডুব দিয়ে। এদেশের হাটে-মাঠে-ঘাটে সুরের নিত্য আসা যাওয়া। এমন একটা দেশ থেকে সংগীত বা সুর লোপাটের হুজ্জুত কেন তৈরি হলো? কাদের স্বার্থে? সংগীত যাঁদের ধ্যান-জ্ঞান, তাঁদের অনুভূতি নেই? তাঁদের অনুভূতি নিয়ে ঘন ঘন জান্তব আস্ফালন কেন দেখতে হচ্ছে বাংলাদেশকে? বর্তমানে বাংলাদেশে সংগীতচর্চার ওপর যে অস্বস্তিকর চাপ ক্রমশ বাড়ছে, তা আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হয় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কনসার্ট বাতিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ, সংগীতশিক্ষার পদ বাতিল—এসব যেন এক অদৃশ্য কলকাঠির দৃশ্যমান প্রবণতার অংশ হয়ে উঠেছে। আর সেই প্রবণতার ভয়াবহতম প্রতীক হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে ‘ভাইরাল’ হওয়া একটি ভিডিও। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বিশেষ ‘লেবাস পরিহিত’ কয়েকজন তরুণ হারমনিয়াম-তবলা ভাঙছে লাথি দিয়...

সম্পাদকীয়: পাঠভাবনা

ছবি
নি সর্গের আগস্ট সংখ্যার সম্পাদকীয়টি বিগত দুই-আড়াই বছরে পড়া সাহসী এবং বস্তুনিষ্ঠ একটি সম্পাদকীয় কলাম। একটি পত্রিকার সম্পাদকীয় কেবল একটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং তা সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিফলন। নিসর্গের এ সংখ্যার সম্পাদকীয় কলামে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে প্রথমেই আঙুল তোলা হয়েছে মব জাস্টিস এবং ধর্মান্ধতার বিভৎসতার দিকে। পুরনো কোনো ঘটনার জের ধরে কিংবা গুজবকে কেন্দ্র করে যখন প্রকাশ্যে মানুষকে হত্যা করা হয় এবং আইনের শাসন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে, তখন তা সমাজকে এক চরম অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। একই সাথে সুস্থ বিনোদন বা গান-বাজনাকে ‘অসামাজিক’ তকমা দিয়ে নিষিদ্ধ করার পাঁয়তারা মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য মারাত্মক হুমকি। এই মনস্তত্ত্ব সমাজকে পেছনের দিকে নিয়ে যায়। পৌঁছে দিতে চায় বর্তমান আফগানিস্তান সমপযার্য়ের কোনো ভূখণ্ডে। রাজনীতি ও ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে শ্রদ্ধেয় সম্পাদক যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন, তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জায়গা থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের একটি বড় রাজনৈতিক অংশ বা সাধারণ সমর্থকগোষ্ঠীকে কেবল প্রশাসনিক ঘোষণা বা বক্তব্যের ম...

মাটির মূর্তিই ভেঙেছে তোমার...

মা টির মূর্তি ভেঙেছে তোমার? ভয় নেই বঙ্গবন্ধু, আমরা এখনো অগুনতি সন্তান রয়েছি তো! ভগ্ন হৃদয়, বিষণ্ণতায় জর্জর আছি সত্যি তবুও জেনো, রুদ্ধ হয়নি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতার স্বর একাত্তরে মুছতে তোমাকে পারেনি পাকিস্তানি জান্তা আজকে তাদের প্রেতাত্মারাই ভাঙছে তোমার মূর্তি ওগুলো পাথর কিংবা মাটির কাঠামো, নিমেষেই হয় তছনছ কালের মুঠোয় অক্ষত আছে তোমার তর্জনীর ইশারা, সে অজর! পাঁজরে পাঁজরে শিখাঅনির্বাণ সাত মার্চের ভাষণ কালের সে সাক্ষী পারবে মুছতে লাল দুঃশাসন? বাংলার মাটি, বাংলার জল, আছো তুমি সবে মিশে তোমাদের আনা স্বাধীনদেশটা এখনো আছে দাঁড়িয়ে  আছে লক্ষ সন্তান, তোমার ভাবনা কিসে! প্রনতি জেনো সেই ছেলেমেয়ের আজকে বিষাদ দিনে- অদৃশ্যে তারা রেখে গেল  অশ্রু-আগুন ফুল।  

বাঁচি না কেন বাঁচার আনন্দেই...

ছবি
আমরা প্রচুর কাঠখড় পুড়িয়ে জীবনভর গাম্ভীর্যের এক নিরেট দুর্গ গড়ে তুলতেই যেন ব্যস্ত থাকি। কেননা, নিরন্তর সজাগ এই পৃথিবীর চোখে কোনোভাবেই আনাড়ি, অপ্রস্তুত বা তুচ্ছ প্রতিপন্ন হওয়ার লজ্জা আমাদের সয় না। আর সেই ভয় মেটাডরের মতো শিং উঁচিয়ে আমাদের তাড়া করে বেড়ায়। আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে শান দিই, মর্যাদাকে আঁকড়ে থাকি এবং প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত মেপেজুখে উচ্চারণ করি। ভাবখানা এমন, যেন এইধারা রক্ষা করা গেলে জীবনবাবাজির গলায় যাবতীয় বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে রক্ষাকবজের মাদুলি হয়ে জুটে যাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের শক্তি। অথচ, অবিরাম সংযত ও স্থির থাকার এই প্রচেষ্টায় আমরা প্রায়শই নিজেদের অহংকারের বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়ি। আমরা আড়ষ্টতাকে শক্তি এবং বিদ্রূপাত্মক মনোভাবকে প্রজ্ঞা বলে ভুল করি। অথচ ভুলে যাই, জেলবন্দি কয়েদির মতো বানোয়াট সেই নিয়ন্ত্রণ নামের মুখোশের আড়ালে কাটানো জীবন আদতে লাবণ্য, বিস্ময় এবং স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের স্বাদ থেকে বঞ্চিত এক নিরস জীবন। এই ফাঁপা জীবনকে পাশ কটিয়ে বাঁচার আনন্দে বাঁচতে শেখার গুরুত্ব আ্যালডাস হ্যাক্সলির ভাবনা-চিন্তায় প্রকট। পান থেকে চুণ খসে পড়লেই জীবন হায় হায় করে হাত গ’লে গভীর কুয়োতে যে পতিত হয় ...

মাটির মূর্তি ভাঙা সহজ, ইতিহাস মোছাও কি?

ছবি
এ ই ঘটনা জুলাই ২০২৬-এর; কোনো এক স্কুলের শিশু শ্রেণির ছেলেমেয়েদের দুহাজার চব্বিশের জুলাই-এ নিহত আবু সাঈদের ছবি আঁকতে বলা হয়েছিল। কতই বা বয়স ওদের! কে শহীদ, কে বীর, এসব বোঝার ক্ষমতা এই বয়সে ওদের ভেতর তৈরি হওয়ার কথা নয়। বোধটা যেন তৈরি হয় সেজন্য ওদের তৈরি করা প্রয়োজন বইকি। তৈরির এই ধাপ পরিবার এবং স্কুল, দুই স্থানেই হতে পারে। ইতিহাসের প্রতি সৎ থেকে দেশের জাতীয় বীরদের গল্প শিশুদের বলা জরুরি। ওদের ধারণক্ষমতা বুঝেই ইতিহাসের পাঠদান চলতে পারে। বলা যেতে পারে আমাদের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের গল্প। তাঁদের আত্মত্যাগ রূপকথা মনে হলেও তা যে একবিন্দুও বানোয়াট নয়, তার সত্যতা ইতিহাস ধারণ করে আছে। শিশু শ্রেণির শিশুরা এখনই সেসব বুঝবে না। কিন্তু ছোটবেলা থেকে যদি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বীরশ্রেষ্ঠ এসব গল্পগুলো সহজবোধ্য করে শোনানো যায় তাতে করে শিশুমনে দেশের জন্য জীবন দেওয়া বীরদের প্রতি যেমন শ্রদ্ধা-মমতা তৈরি হবে; পাশাপাশি ইতিহাসকে গুরুত্ব দেবার প্রবণতার বীজটিও পুঁতে দেওয়া সম্ভব হবে। ইতিহাস বিমুখ জাতি হালহীন নৌকার মতো লক্ষ্যহীন গন্তব্যের যাত্রী। ইতিহাসবিমুখতা আমাদের আগামীর কাণ্ডারী হোক সেটা নিশ্চয়ই আমরা চাইবো না। শিশুমনে ই...