সামাজিক স্যাডিজম: এক আধুনিক মহামারি
পৃথিবী আজ গভীর অসুখে আক্রান্ত। কোনো দেশই আর নিরবিচ্ছিন্ন শান্তিতে নেই। দেশ শান্ত না থাকলে তার মানুষগুলোও অশান্তিতে থাকে। দেশে দেশে মানুষগুলোকে শান্তির নামে অশান্তি আর যুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে অসাধু শাসকের দল। ফলত পৃথিবীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষগুলোও কমবেশি অসুস্থ। স্যাডিজম নামের ভয়াবহ এক অসুখ ঘিরে ধরেছে আমাদের। আমরা আগের মতো অন্যের আনন্দে আনন্দ খুঁজে পাচ্ছি না। ঈর্ষাকাতরতায় আমরা এতটাই কাতর হয়ে পড়ছি যে নূন্যতম ভদ্রতাটুকু পর্যন্ত খসে পড়ছে, এবং তাতে আমাদের বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপও নেই। অন্যের প্রাপ্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় আমরা বিদঘুটে আনন্দ খুঁজে নিচ্ছি। ‘তোমার আনন্দে আমার নেচে ওঠা’ তাই অন্তঃসারশূন্য, স্রেফ কথার কথা হিসেবে ভ্রুকুটি করছে আমাদের দিকে চেয়ে।
একে সামাজিক স্যাডিজম বলতে পারি। যা নীরবে আমাদের রক্তের বিশুদ্ধতায় বিষ ঘুলে দিচ্ছে। সামাজিক স্যাডিজম বলতে কি বোঝায়? অন্যকে অপমান, কষ্ট বা ধ্বংস হতে দেখে একধরনের মানসিক তৃপ্তি পাওয়া, এবং সেই তৃপ্তিকে ন্যায়, নৈতিকতা বা বিচার নামের আড়ালে বৈধ করে তোলাই সহজ কথায় স্যাডিজম।এটি কোনো বিচ্ছিন্ন মানসিক ব্যাধি নয়; বরং যখন একটি সমাজে মানুষ ক্রমাগত অন্যের পতন, অপমান বা শাস্তি দেখে আনন্দ পেতে শুরু করে এবং সেটিকে নৈতিক কর্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, তখন সেটি সামাজিক স্যাডিজমে রূপ নেয়। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় “ফ্যাসিস্ট” শব্দটির বহুল ব্যবহার বহুক্ষেত্রে এই স্যাডিস্টিক আনন্দের নৈতিক আবরণ হয়ে উঠছে। মব সন্ত্রাস কিংবা তাণ্ডবে সমাজের একটা অংশ খুশিতে উদ্বাহু নৃত্য করছে। অপর একটি অংশ যারা শিক্ষিত, দুবেলা দু’মুঠো ভাতের চিন্তায় যারা দিশেহারা নন; সেই অংশটি নিরপেক্ষতার অজুহাতে নীরবে সবকিছু দেখে যাচ্ছে । এভাবে চুপচাপ প্রতিবাদহীন হয়ে সমাজটাকে ক্রমশ অসুস্থ হতে দেখে যাওয়াও হয়তো একধরনের অসুস্থতা, যার নাম আমার জানা নেই।
ছবি: এআই নির্মিত

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন