উই হ্যাভ দ্যাট ড্রিম
‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বিখ্যাত ভাষণ। কিং জুনিয়র এটা ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটনে দিয়েছিলেন। ভাষণে তিনি বর্ণ বৈষম্যের অবসান আর সবার জন্য সমান অধিকারের দাবি জানান। তাঁর স্বপ্ন ছিল, একদিন সবাই জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে একসাথে শান্তি আর সম্প্রীতির ছায়ায় বাস করবে। লুথার জুনিয়রের এই ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একটা মাইলফলক। একই সঙ্গে এটাকে ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ভাষণ হিসেবে ধরা হয়। প্রতি বছর জানুয়ারির তৃতীয় সোমবার মার্টিন লুথার কিংয়ের স্মরণে ফেডারেল হলিডে হিসেব পালিত হয়ে আসছে। ক্ষমতায় যে দলই বহাল থাকুক তাতে কোনো ব্যত্যয় ঘটে না। এই দিনকে ছুটির তালিকা থেকে বাতিল কিংবা ভাষণটাকে তামাদি করার কোনো দাবি কখনও উঠেছে বলে জানা নেই।
বাংলাদেশের ভান্ডারেও এরকম একটা ঐতিহাসিক ভাষণ আছে। গেটিসবার্গ এড্রেস, আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম, ১৯১৬’র ৮ ফেব্রুয়ারি বার্ণে ভ্লাদিমির লেনিনের ভাষণ, চার্চিলের দেয়ার ফাইননেস্ট আওয়ার, নেলসন ম্যান্ডেলার আই অ্যাম প্রিপেয়ার টু ডাই, এর পাশে ৭ মার্চের ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ স্বমহিমায় জায়গা করে নিয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা চরম কিউট এবং রত্নের যত্নে ভীষণ পারঙ্গম। তার নজির রেখেছে ছল করে ক্ষমতায় আসীন হওয়া অন্তবর্তী পাকপিয়ারু সরকার। তারা আইন করে ঐতিহাসিক ৭মার্চকে ছুটির তালিকা থেকে খারিজ করেছে। সম্ভব হলে হয়তো বঙ্গবন্ধুর ভাষণকেও ছুমন্তর করে দিতো। তাদের সেই চাওয়ার মুখে ছাই। প্রিয় দেশ, তোমার আঁচলে বাঁধা রইল কোটি সন্তানের একান্ত স্বপ্ন। স্বপ্নটাকে আগলে রেখো। আস্থা রাখো, বাংলাদেশ ঠিক ঘুরে দাঁড়াবে। সেদিন আসবে, তাকে যে আসতে হবেই। উই হ্যাভ দ্যাট ড্রিম…

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন