শিরোনামহীন
বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ। পুজো মানেই আনন্দ নাড়ু, ছেলেবেলার রমাদির সঙ্গে দাপিয়ে বেড়ানোর স্মৃতি। ওসব দিন কবেই ভাসানে গেছে। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বুলি বৈ আর কিছু নয়। পুজোর উৎসবে পাড়া-মহল্লাগুলো আগের মতো গমগমিয়ে জেগে না উঠলেও নিয়ম মেনে উৎসবকে নিজের মতো করে আরো রঙিন করতে কতিপয় বরাহের উৎসাহের সীমা থাকে না। তারা ঘোৎ ঘোৎ করতে করতে, পুজোর শুরুতেই মাঠে নেমে পড়ে। এ বছরও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। তাদের উৎসবে ‘জেগে ওঠা’র খবর আর কতটুকুই আমরা পাই! ‘সংখ্যালঘু’ শব্দের মতো অভিশপ্ত শব্দ বাংলা অভিধানে মনে হয় আর দ্বিতীয়টি নেই! নিজের দেশে পরবাসী হয়ে ঝিনুক কষ্ট বয়ে বেড়ানো কতটা যন্ত্রণার, সে ভুক্তভোগী ভিন্ন কারো বোঝার কথা নয়। আমরা সেই বোধের ধারেকাছেও ঘেষতে নারাজ। প্রতিবছর নিয়ম করে পুজোমণ্ডপে ভাঙচুর হয়, আমরা নিয়ম করে 'আহা উহু'র দায়িত্ব পালন করি। আমাদের বোধবুদ্ধি ভোঁতা, ইন্দ্রিয়শক্তি অকেজো। মানুষের মগজ পচার বদ গন্ধ নাকের সীমানায় ঘুরপাক খেয়ে কোথায় একটা হারিয়ে যায়। দূর থেকে ভেসে আসে বালকের পাঠ... বালক বিখ্যাত এক কবিতা আওড়াচ্ছে, খুব চেনা সে কবিতা। অথচ কাছাকাছি এসে দিব্যি সে কেমন অন্য এক অনুবাদ হয়ে শরতের হাওয়া...