পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সত্যিই আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে

ছবি
গ ত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশের হিংস্রতার দৃশ্য আমাদের অনেকেই হতবাক করে রেখেছে। কেমন যেন মূক-বধির হয়ে গেছি। মনে হচ্ছে ভেতরের ইতিবাচক শক্তি যেন নিঃশেষ। এমন অসুস্থ পরিবেশে একটা জাতি কীভাবে বেঁচেবর্তে থাকে ভেবে বিস্মিত কম হচ্ছি না। ব্যথিত হচ্ছি সেইসব শিশুদের কথা ভেবে, যারা অসুস্থ, হিংসায় উন্মত্ত ওই পরিবেশের ভেতর আছে। কী শিখছে বা শিখবে ওরা আজকের বাংলাদেশে চলমান তাণ্ডব থেকে? ওদের মননে রাষ্ট্র-সমাজ এবং পরিবার যেন সযত্নে বুনে দিচ্ছে হানাহানির সংস্কৃতি। পর মতের প্রতি হিংসাত্মক আচরণের কলাকৌশল। আজ ওরা দেশজুড়ে যা দেখছে শুনছে– বিশেষ করে সাত বছর বয়সি আয়েশা নামের ছোট্ট শিশুটিকে বন্ধ ঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করার যে ঘটনা-- কী পাশবিক! কিংবা দীপুচন্দ্র দাস নামে একজন কর্মীকে প্রথমে মেরে হাত-পা ভেঙে তারপর গাছের সঙ্গে বেঁধে পুড়িয়ে হত্যার- এই যে নারকীয় উদাহরণ রাখা হলো– এবং আশ্চর্যের কথা এসব নিয়ে রাষ্ট্র নীরব থাকলো, সুশীল সমাজ নীরব থাকলো। এসব কী শিশু মননে প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে না? প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী মবচক্রের ক্ষমতা প্রদর্শনের এই মারণ নেশা যে আজকে যারা শিশু তাদের কাউকে আগামীর মব হতে প্ররোচিত করবে না- সেটা আম...

আলোহীন অন্ধকার

ছবি
দু দিন আগে বেগম রোকেয়ার জন্মদিন গেল। আমাদের বাঙালি সমাজের একটা অংশ তাঁর প্রতি যেমন শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, অন্য আরেকটা অংশ জানিয়েছেন তীব্র ক্ষোভ বা ঘৃণা। একজন বেগম রোকেয়াকে অসম্মানিত হতে দেখে বোধসম্পন্ন মানুষ মাত্রের ব্যথিত-বিস্মিত হওয়া স্বাভাবিক। প্রশ্ন হচ্ছে এটি কি আদৌও নতুন ঘটনা? গত বছর বেগম রোকেয়াকে ঘিরে অসম্মানের একটা আবর্তন তৈরি হলেও এবছরও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে ভাবিনি। যদিও তাঁর জীবদ্দশায় রোকেয়াকে সমাজের রক্তচক্ষু সহ্য করেই এগোতে হয়েছিল। এমনকী মৃত্যুর পর কলকাতায় তাঁকে কবরস্থ পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি। একদল ধর্মান্ধ ফতোয়াবাজ মৃতকে নূন্যতম সম্মান জানানোর পরিবর্তে করেছিল চরম অপমান। তাদের ক্ষোভ ছিল রোকেয়ার ওপর। কারণ তিনি মুসলিম সমাজের রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন তাঁর লেখালিখি আর কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে। নারীমাত্রই অন্তঃপুরবাসিনী নন, সেকথা গলা তুলে বলেছিলেন। তাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ভগিনীরা! চক্ষু রগড়াইয়া জাগিয়া উঠুন, অগ্রসর হউন! মাথা ঠুকিয়া বলো মা! আমরা পশু নই; বলো ভগিনী! আমরা আসবাব নই; বলো কন্যে আমরা জড়োয়া অলঙ্কাররূপে লোহার সিন্ধুকে আবদ্ধ থাকিবার বস্তু নই; সকলে সমস্বরে বলো আমরা মানুষ।...

আমাদের বাতিঘর

ছবি
  আ মাদের স্কুলের পাঠ্য বইতে বেগম রোকেয়া সম্পর্কে পড়ানো হতো। কিন্তু সেখানে তাঁর সম্পর্কে যে ধারণা দেওয়া হতো, সেটা ছিল অসম্পূর্ণ। একটা খণ্ডিত চিত্র মাত্র। তাতে ছকবাধাভাবে বলা হতো তিনি মুসলিম নারীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার করেছেন, স্কুল বানিয়েছেন, নারীর কল্যাণে কাজ করেছেন, ব্যস এটুকুই। সম্পূর্ণ রোকেয়া সেখানে অনুপস্থিত। ফলে এই মহীয়সী নারীর পুরোটা উঠে আসেনি আমাদের শৈশবের ক্যানভাসে। বড় হয়ে আর কয়জন তাঁর সম্পর্কে জানার আগ্রহ দেখাই! শৈশবের ওই জানাটুকু আমাদের মগজে তথ্য হিসেবে থেকে গেছে। তথ্যগুলো ভুল নয় মোটেও। কিন্তু বড় হয়ে যখন তাঁর সম্পর্কে জেনেছি, তখন বুঝেছি কতটা খণ্ডিত রোকেয়াকে পাঠ্য বই তুলে ধরেছে। এমনটা কেন! দুঃখজনক বিষয় হলো তাঁকে আড়ালের এই চেষ্টা দুই দুজন নারী রাষ্ট্রপ্রধানের সময়ও থেমে থাকেনি। বাকিদের সময়কার কথা আর নাই বলি। পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতর বাসরত আমাদের সমাজ সচেতনতার সঙ্গে আড়াল করতে চেয়েছে রোকেয়া সম্পর্কিত তথ্য। তাদের ভেতর বুঝি একধরনের ভয় কাজ করেছে– তাঁর দেখানো পথ হয়তো পুরুষতান্ত্রিকতার বিপক্ষে দাঁড়ানোর হাতিয়ার হতে পারে। তাই আমরা জানতে পারিনি, একজন রোকেয়ার সংগ্রাম কেবলমাত্র নার...